যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে থাকলে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতি গোষ্ঠীর উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আল-এজ্জি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে থাকেন, তাহলে বিদ্রোহীরা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বন্ধ করে দিতে পারে।’
এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আল-এজ্জি লিখেছেন, ‘সানা যদি বাব আল-মানদেব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সমগ্র মানবজাতি ও জিন কেউই সেটি পুনরায় খুলতে সক্ষম হবে না।’
‘অতএব, ট্রাম্প এবং তার সঙ্গে জড়িত বিশ্বব্যবস্থার উচিত অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বাধাগ্রস্ত করে এমন সব কার্যক্রম ও নীতি বন্ধ করা এবং আমাদের জনগণ ও জাতির অধিকারকে প্রয়োজনীয় সম্মান প্রদর্শন করা’, যোগ করেন তিনি।
মূলত ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সমর্থনে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।
এর আগে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা ও যুদ্ধের জেরে লোহিত সাগরে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল হুতি যোদ্ধারা। সে সময় ইয়েমেন উপকূলে মার্কিন ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট নৌযানে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যিক পথ। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনে এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এশিয়ার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও এই নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই প্রণালিটিও হরমুজ প্রণালির মতোই সংকীর্ণ।
সুয়েজ খালের দিকে পরিচালিত প্রণালিটির সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২৯ কিলোমিটার বা ১৮ মাইল প্রশস্ত, যার ফলে আগত ও বহির্গামী জাহাজ চলাচল দুটি আলাদা নির্দিষ্ট পথে সীমাবদ্ধ থাকে। কাজেই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোটাই ইয়েমেন সরকারের হাতে।
এর আগে শুক্রবার ইরানের নৌ বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সমঝোতা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌযান চলাচলে অনুমতি দিয়েছিল ইরানি বাহিনী।


