রাজশাহীতে নিজ বাসায় ঢুকে এক বিচারকের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর ডাবতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম তাওসিফ রহমান সুমন (১৮)। তিনি রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ছেলে। আবদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। তিনি পরিবার নিয়ে রাজশাহী নগরীর ডাবতলা এলাকায় ভাড়া বসবাস করতেন। তাওসিফ রহমান নবম শ্রেণিতে পড়ত।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইমন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আহত অবস্থায় তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ইমনের বাড়ি গাইবান্ধায়। তিনি ভবনে ঢোকার সময় দারোয়ানের খাতায় নিজের নাম লিমন ও বিচারকের ভাই পরিচয় লিখেছে। পরে ভবনের দারোয়ান তাকে বিচারকের ফ্ল্যাটে যেতে দেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, ইমনের পকেটে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে তিনি গাড়িচালক ছিল। তার সঙ্গে বিচারকের পরিবারের পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
পুলিশ কমিশনার জানান, সিলেটে থাকাকালে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার সুরমা থানায় ইমনের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন। তবে জিডি করার বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি।
এদিকে সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ইমন দরিদ্র ছিল। বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনোভাবে পরিচয় হয়। সহানুভূতির দৃষ্টিকোন থেকে বিচারকের স্ত্রী তাকে আর্থিক সাহায্য করতেন। পরে হয়তো সে আরো টাকাপয়সা চাচ্ছিল, কিন্তু বিচারকের স্ত্রী আর টাকাপয়সা দিচ্ছিলেন না-সম্ভবত এমন কোন বিষয়কে কেন্দ্র করেই থানায় জিডি করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বিচারকের স্ত্রী এবং হামলাকারী যুবকের জ্ঞান ফিরলে প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাবে বলে জানান উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান।


