পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

‎ফরিদপুরের মধুখালীতে গোয়াল ঘরের পানি বের করা ও পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার নাম জায়েদুল বিশ্বাস (৪২)। অভিযুক্ত  শাকিল বিশ্বাস তার চাচা।
‎
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
‎
‎নিহত জায়েদুল ওই এলাকার মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের ছোট ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু পালন করতেন। তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে।
‎
‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে লিপ্টন বিশ্বাস (৫২), আমুদে বিশ্বাস (৪৮) ও জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় এবং জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমুদে ও জায়েদুলের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়েও কয়েকবার ঝগড়া ও শালিস হয়েছে।
‎
শুক্রবার সকালে বসত ঘরের সিড়ি নির্মাণ ও বাড়িতে জমে থাকা পানি বের করা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আমুদে বিশ্বাসের ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৫) কাঠের বাটাম দিয়ে চাচা জায়েদুলকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান জায়েদুল। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সোহেল রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
‎
‎স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, ‘তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। জায়গা-জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার শালিসও হয়েছে। শুনেছি জায়েদুল আগে হাতে থাকা কোদাল দিয়ে ভাই-ভাতিজাদের উপর উত্তেজিত হন। পরে ভাতিজা শাকিল বাটাম দিয়ে আঘাত করেন।’
‎‎
‎খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেলের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ। পরে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মাসুদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
‎
‎মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad