উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাকে সমৃদ্ধ করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ষষ্ঠ ‘উত্তর আমেরিকা আবৃত্তি উৎসব ২০২৬’। এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল– ‘আজ উচ্চারিত হোক সম্প্রীতির বাণী’।
এই প্রথমবারের মতো অনলাইনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার সেবা লাইব্রেরির মঞ্চে সরাসরি অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে অংশ নেন শতাধিক বাচিক শিল্পী।
উৎসবে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বাংলা ব্যান্ড স্কুল ডালাস, ওরিগনের সৃজনের পাঠশালা এবং আবৃত্তি আশ্রমের শিশুদের চমৎকার পরিবেশনা সবার নজর কেড়েছে।
উৎসবের দুটি বিশেষ পর্বে উত্তর আমেরিকার কবিরা স্বকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন। এ ছাড়া কবিতার গান ও গল্প নিয়ে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন অনিন্দিতা কাজী, সোনালী রায় ও ইসমাইল হোসেন।
উৎসবটিকে নিজেদের নান্দনিক পরিবেশনা দিয়ে মুখরিত করে তোলে বিভিন্ন আবৃত্তি সংগঠন। যার মধ্যে অন্যতম— অন্যস্বর, সমস্বর, কথকতা, বাচনিক, উত্তরের জানালায়, আটলান্টা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, উচ্চারণ, কণ্ঠসাধন, আলোকধারায় মিলি এবং স্বরসাহিত্য।
উৎসবের সূচনা ও সমাপ্তি—উভয় পর্বই ছিল মননশীল বক্তৃতা, কবিতাপাঠ ও হৃদয়ছোঁয়া সংলাপে সমৃদ্ধ। সমাপনী পর্বের শুরুতেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় প্রয়াত আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ ও কবি আসাদ চৌধুরীকে।
উৎসবে উপস্থিত ও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত সকলেই বর্তমান বিশ্বের সব ধরনের বিদ্বেষ ও বিভক্তির অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কোনো নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনের বলয়ের বাইরে থেকে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত যে কজন আবৃত্তিশিল্পী ও আবৃত্তিপেমি এই উৎসবকে সফল করতে অক্লান্ত কাজ করেছেন, তারা হলেন মন্ট্রিয়াল থেকে তোতন আফাজ, আটলান্টা (জর্জিয়া) থেকে রিজোয়ান হৃদয় ও রাশেদ চৌধুরী, হ্যামিল্টন থেকে নাঈমা সিদ্দিকা, ডালাস (টেক্সাস) থেকে তারেক ইয়াসিন উজ্জ্বল, রুনি সরকার ও মারুনা রাহী, নিউজার্সি থেকে অবন্তিকা মুখার্জি এবং টরন্টো থেকে ফারিয়া সেহেলী।
উৎসব শেষে আয়োজকেরা জানান, এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠানমালাই নয়, বরং প্রবাসে একটি দৃঢ় সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তোলার প্রয়াস।
যাত্রা শুরুর পর কয়েকটি পর্যায় পার করে এই উৎসব উত্তর আমেরিকার আবৃত্তি শিল্পীদের নিজেদের মেলে ধরার একটি অনিবার্য ও স্বনামধন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যার প্রমাণ শতাধিক শিল্পীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। উত্তর আমেরিকাসহ সারা বিশ্বজুড়ে এই সাংস্কৃতিক ধারা বজায় রাখতে তারা আগামী দিনগুলোতেও কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর।


