বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজনা “রক্ত করবী” দেখে মুগ্ধ সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের মন্টুর কাজ? কিন্তু ও ফিল্ম না করে টেলিভিশনে করেছে কেন?’ তিনি মুস্তাফা মনোয়ারকে চিনতেন মন্টু নামে। মুস্তাফা মনোয়ারের বাবা কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের শিক্ষক। সেই সত্তুরের দশকে বিটিভির সীমাবদ্ধ পরিসরে সীমিত সুযোগ সুবিধার ভেতরে “রক্ত করবী”, “মুখরা রমণী বশীকরণ” কিংবা “ডাকঘর”-এর মতো নাটক কীভাবে নির্মিত হতে পারে অডিও-ভিজুয়্যাল মিডিয়ার মানুষের কাছে তা আজও বড় ধরনের বিস্ময়।
শুধু নাটক বা অনুষ্ঠান প্রযোজনায় নয়, বরং টেলিভিশনের মতো ক্ষুধার্ত হাঙ্গরের জন্য নিত্য নতুন অনুষ্ঠানের বিষয় উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে মুস্তাফা মনোয়ারের মতো সৃজনশীল দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে তাঁর পরিকল্পনায় শুরু হয়েছিল ‘নতুন কুঁড়ি’। ছোটদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন ও বিষয়বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অনুষ্ঠান এই অনুষ্ঠানটি শিশুদের এমনকি বড়দের মধ্যেও জনপ্রিয় ছিল। অনুষ্ঠানটির সূচনা সঙ্গীত, ‘আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি নিখিল বন-নন্দনে, ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে’ নেয়া হয়েছিল গোলাম মোস্তফার একটি বিখ্যাত কবিতা থেকে।
তবে শিশুদের জন্যে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান নিঃসন্দেহে তাঁর সৃষ্ট চরিত্র পারুল, বাউল এবং ষাঁড়কে নিয়ে নির্মিত তাঁর পপেট শো। মনের কথা নামে প্রাচারিত একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে ছোটদের জন্যে অনুষ্ঠানটি ছিল গল্প, গান, ছবি আঁকা এবং পাপেট প্রদর্শনের অসাধারণ সংমিশ্রণ। এই পাপেট শোর মূল পরিকল্পনা এবং ‘শিল্পী ভাই’ হিসাবে উপস্থাপনায় ছিলেন স্বয়ং মুস্তাফা মনেয়ার। ‘শিল্পী ভাই’ এর সাথে পারুল, বাউল ভাই এবং ষাঁড়ের মতো জনপ্রিয় পুতুল চরিত্রের কথোপকথনের ভেতর দিয়ে এবং শিল্পী ভাইয়ের জাদুকরী তুলির আঁচড়ে প্রায় দুই দশক ধরে শিশুদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় ছিল এই অনুষ্ঠান।
বিশ্বখ্যাত শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিস্যাম স্ট্রিট’কে বাংলাদেশি সিসিমপুর হিসাবে রুপান্তরের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানটির ভাষা, চরিত্র, পরিবেশ, গল্প ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য যেনো পুরোপুরি বাংলাদেশের শিশুদের নিত্যদিনের জীবন ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিলে যায় সেই বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। আমাদের লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচের সাথে আধুনিক পাপেট্রির সমন্বয় সাধন করে তিনি সিসিমপুরকে দিয়েছেন দেশজ পরিচয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান উপদেশক হিসাবে তাঁর সৃজনশীল ভাবনায় পাপেটগুলোর নকশা ও নির্মাণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল তাঁর। বাংলাদেশের নিজস্ব পুতুলশিল্পের সৌন্দর্য ও শিশুদের কল্পনার জগতকে তিনি নতুনভাবে রূপায়িত করেছেন বললে অত্যুক্তি হয় না। মীনা কার্টুনের ক্রিয়েটিভ টিমের সাথেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
মুস্তাফা মনোয়ার তাঁর জীবনের প্রথম পাপেট শো আয়োজন করেছিলেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ আর লুটপাটের ভেতর থেকে যারা পালিয়ে ভারতের পশ্চিম বাংলায় শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল সেই সব ভীত সন্ত্রস্ত শিশুদের দেখেই মুস্তাফা মনোয়ারের মনে হয় এদের জন্য কিছু করা দরকার। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যেই ইয়াহিয়া খান, পাকিস্তানি সৈনিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পাপেট তৈরি করে হাস্য কৌতুকের কাহিনী দিয়ে দিনের পর দিন শরণার্থী শিবিরে তিনি পাপেট শোর আয়োজন করেছেন। শুধু শিশুদের নয়, এই পাপেট শো ভিটে-মাটি ছাড়া উদ্বাস্তু সাধারণ মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরও অনুপ্রাণিত করেছিল।
ঊনিশ’শ চুরাশি সালের মাঝামাঝি মুস্তাফা মনোয়ারের পরিকল্পনায় মাহবুবুল আলম ও আমি যৌথভাবে ‘দিন পনের’ নামে একটি অনুষ্ঠান শুরু করেছিলাম। অনুষ্ঠানটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন অগ্রজ প্রযোজক হায়দার রিজভী। তিরিশ মিনিটের এই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হতো পঁচিশ থেকে তিরিশটি আইটেম। দু’একটি বিষয় দু’তিন মিনিটের হলেও বেশিরভাগ বিষয় ছিল কুড়ি পঁচিশ সেকেন্ড বা বড় জোর এক মিনিটে বিচিত্র সব তথ্য, দৃশ্য, বক্তব্য এবং বিনোদন। বিটিভির সীমাবদ্ধতা এবং কিছুটা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তিন মাস পরে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে মুস্তাফা মনোয়ার স্যার বলেছিলেন, ‘তোমরা দুই হাজার চার সালের অনুষ্ঠান শুরু করেছো চুরাশি সালে। এই অনুষ্ঠানের জন্যে তোমাদের অন্তত কুড়ি বছর অপেক্ষা করতে হবে।’ আমাদের দুর্ভাগ্য কুড়ি বছর কেন, ত্রিশ বছর পরেও এই ধরনের একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ করা আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হয়নি।
কবি গোলাম মোস্তফা এবং জামিলা খাতুনের পুত্র মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর মাগুরায়। ছবি আঁকা এবং সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল শৈশবেই। স্কুলের ছাত্র থাকাকালীনই তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ছবি আঁকার অপরাধে অল্প কিছুদিনের জন্যে কারাবরণও করতে হয়। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল কাঠামোর পেছনে যে রক্তিম সূর্য দেখা যায় তারও অন্যতম স্থপতি তিনি।
মুস্তাফা মনোয়ারের কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা এবং শিল্পকলা একাডেমিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার এবং উপ-মহাপরিচালক। সর্বশেষ এই পদে থাকাকালীন তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। আমরা তাঁকে সরাসরি শিক্ষক হিসাবে পেয়েছি জাতীয় সম্প্রচার একাডেমিতে। সেই সূত্রে তিনি শুধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বস নন, তিনি সত্যিকারের শিক্ষক এবং প্রকৃত অর্থেই আমাদের স্যার! তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল সহজ সরল কথোপকথনের ভেতর দিয়ে গল্পের মতো করে এবং হাতে কলমে কাজের ভেতর দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া। সেট ডিজাইন, তথা শিল্প নির্দেশনা, গ্রাফিক্স এবং আলোক নির্দেশনা সম্পর্কিত তাঁর ক্লাসগুলো অডিও-ভিজুয়াল গণমাধ্যমের পরবর্তী প্রজন্মের কলাকুশলীদের জন্য ছিল অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
স্টুডিওতে আলোর ব্যবহারে তিনি ছিলেন অতুলনীয় এক সৃষ্টিশীল মানুষ। এ প্রসঙ্গে একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা যায়। খ্যাতিমান রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী কনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন সে সময় তাঁকে টেলিভিশনে গান গাইবার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মোহরদি অর্থাৎ কনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটে এসে দীর্ঘক্ষণ বসে আছেন। বেলা এগারোটায় রেকর্ডিং শুরু হবার কথা, কিন্তু বারোটা পর্যন্ত মুস্তাফা মনোয়ার লাইট ঠিক করছেন। মোহরদি ডেকে বললেন, ‘মন্টু তুমি এত কী করছো? কয়েকটা গানই তো গাইব।’ তারপরে আলো জ্বলল, মোহরদি চিৎকার করে বললেন, পেছনে গুরুদেব এলেন কী করে?
মুস্তাফা মনোয়ার আলোটা এমন করে করেছিলেন, যেন পেছনে ভেসে আছে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি। সেই সেটে গুরুদেবের চরণ তলে বসে গান গাইলেন কনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুস্তাফা মনোয়ার নিজেই বলেছেন, ‘মোহরদি এমনিতেই খুব সুন্দর ছিলেন। সেই আলোতে তাঁকে আরও সুন্দর দেখাচ্ছিল। সেদিন তিনি খুব আনন্দ পেয়েছিলেন গান করে।’
বাংলাদেশ টেলিভিশনে আমাদের পুরোনো সহকর্মীদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত ছিল, ‘মুস্তাফা মনোয়ার প্রশাসনিক কাজে কিঞ্চিৎ অগোছালো এবং ঢিলেঢালা’। কথাটা হয়তো প্রচলিত ফাইলওয়ার্ক কিংবা নিত্যদিনের প্রায় অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ দাপ্তরিক সভার ক্ষেত্রে সত্য। বিটিভির সভাকক্ষে বসে আমাদের কোনো অনুষ্ঠান সম্পর্কিত সভায় তিনি হয়তো সভাপতিত্ব করছেন। সভা শেষে অনেকবারই দেখেছি, তাঁর সামনে রাখা সাদা কাগজ বা নোটশিটে সভা চলাকালীনই তিনি কোনো গ্রাম্যবধূ, নদী-নৌকা অথবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি এঁকে রেখে গেছেন।
তবে প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি যে অসাধারণ প্রত্যুৎপন্নমতি এবং বাস্তববুদ্ধি সম্পন্ন ছিলেন কয়েকটি ঘটনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। পাকিস্তান টেলিভিশনের সূচনা লগ্নে বাংলা ভাষা সংস্কৃতির অনন্য সকল বিষয়কেই বিধর্মী সংস্কৃতি বলে প্রচারে নিরুৎসাহিত হতো। রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচারিত হতো সপ্তাহে একদিন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কোনো নাটক বা গল্পের নাট্যরূপ প্রচার করায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ভারত যখন ফারাক্কা নির্মাণ শুরু করেছে, পাকিস্তানের রেডিও এবং টেলিভিশনকে ফারাক্কার বিরুদ্ধে বেশি করে প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মুস্তাফা মনোয়ার সুযোগটা গ্রহণ করে রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’ নাটক নির্মাণ ও প্রচার করে ফেললেন। পিন্ডিতে পাকিস্তান টেলিভিশনের কর্তারা নাখোশ হয়ে মহা হৈ চৈ বাঁধিয়ে দিল। মুস্তাফা মনোয়ার জবাব দিয়েছিলেন, মুক্তধারা নাটক হোক রবীন্দ্রনাথের, এর বক্তব্য তো বাঁধ দেওয়ার বিরুদ্ধে। তখন পাকিস্তানিরা বলেছিল ‘ঠিক হ্যায়, বহুত আচ্ছা কিয়া’।
মুস্তাফা মনোয়ার তাঁর কর্মজীবনের সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ রাতে। সেদিন ঢাকাসহ সারা দেশে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়। গৌরবোজ্জ্বল এই দিনটি পালিত হয় ‘প্রতিরোধ দিবস’ এবং ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ হিসেবে। এই দিন ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সিদ্ধান্ত নেন ২৩ শে মার্চ অধিবেশন শেষে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো হবে না। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব? সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন জেনারেল ম্যানেজার মুস্তাফা মনোয়ার। ২৩ শে মার্চ রাতের অধিবেশনে বিভিন্ন ফিলার প্রচার করে অধিবেশন ওভারক্যারি করে রাত বারোটা বাজার পরে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘আজ ২৪ শে মার্চ, বুধবার। আজকের অধিবেশন এখানেই শেষ হচ্ছে।’ এরপর পাকিস্তানের পতাকা দেখিয়ে ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এভাবেই ২৩ তারিখ বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের দিন টেলিভিশনে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন এড়িয়ে যান মুস্তাফা মনোয়ার।
তবে পাকিস্তানিরা বিষয়টি সহজভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে ২৫ শে মার্চে অপারেশন সার্চলাইট শুরু হবার পরপরই মুস্তাফা মনোয়ারসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনেকেই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষক, সংস্কৃতিসেবক এবং শিশুপ্রেমী। তাঁর সহজ-সরল ভাষা, আন্তরিক ব্যবহার, রসবোধ এবং সৃজনশীল চিন্তা তাঁকে সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। সৃষ্টিশীল কাজ মানুষের মানবিক বোধ জাগিয়ে তোলা এবং জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এই বিশ্বাস থেকেই শিল্পচর্চার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও শিশুদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আজ তাঁর জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটলো। তবে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তিনি যে উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করে গেছেন তা কখনোই বিস্মৃত হবার নয়।
লেখক: সাবেক উপমহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন


