জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ১০-দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে পঞ্চগড়ে এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।’
শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরের জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে দেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে যারা বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি করেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
দিনাজপুরকে দেশের প্রধান খাদ্য জোগানদাতা অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, দিনাজপুরে আলু ও লিচুর জন্য বিশেষায়িত হিমাগার এবং সংরক্ষণাগার স্থাপন। দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা। প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’ বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক ব্যবস্থা করব যেখানে টাকা দিয়ে বিচার কেনা যাবে না।’ এ সময় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। এ ছাড়া সমাবেশে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ (দিনাজপুর-৫), মতিউর রহমান (দিনাজপুর-১), অধ্যক্ষ আফজালুল আনাম (দিনাজপুর-২), মাইনুল আলম (দিনাজপুর-৩), আফতাব উদ্দীন মোল্লা (দিনাজপুর-৪) এবং আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬) বক্তব্য রাখেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে। অথচ এই অঞ্চলকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াত আমির বলেন, তারা উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চান না। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিক বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়। অথচ সবার পক্ষে সেটি সম্ভব হয় না। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পঞ্চগড়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জনসভায় শহীদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছে জামায়াত ঋণী। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেই ঋণ শোধের চেষ্টা করা হবে।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
জনসভায় পঞ্চগড়-১ আসনের দশ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিক।


