চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে প্রবাসী মিজানুর রহমানের একটি চারতলা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াচুব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মো. আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের আটক করেছে তারা হলেন হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুল এর ছেলে মো. রাকিব (২৪), আ. রহমান এর ছেলে মো. আলভী (২৩), মো. মোস্তাফিজুর এর ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দার এর ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (৩০), মো. আল আমিন এর ছেলে মো. নাফি (১৮) ও কোটমোড় এলাকার আলী কদর এর ছেলে মো. রিফাত (১৯), পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মো. জুয়েল (২৪)।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবনটিতে আন্ডারগ্রাউন্ডের আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো বলেও দাবি করেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


