দেশ গড়ার মহান লক্ষ্যে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সংসদে দাঁড়িয়ে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন যাতে সকল মোহের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কাছে দেওয়া শপথ তারা পূরণ করতে পারেন।
তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করাই জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই জনকল্যাণমূলক কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে যুবসমাজ ও নারীদের অগ্রগতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ফারজানা শারমীন।
তিনি মনে করেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমানভাবে এগিয়ে নিতে পারলেই প্রকৃত জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব। নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, একসময় দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত সীমিত ছিল এবং সত্য কথা বলার জন্য জীবন বাজি রাখতে হতো।
সেই কঠিন সময়ের একটি উদাহরণ টেনে তিনি জানান, একটি টেলিভিশন লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সো-কলড প্রাইম মিনিস্টার’ হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি গঠনমূলক কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন।
তার মতে, এখন আর টকশোতে সময় কাটানোর সুযোগ নেই, বরং মাঠপর্যায়ে ‘ওয়ার্ক-শো’ বা বাস্তব কাজ করার সময় এসেছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে চান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী তার রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার বিষয়ে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে সরাসরি রাজনীতি শেখার সুযোগ না হলেও তিনি খালেদা জিয়ার কাছ থেকে রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করেছেন।
বর্তমান নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সঠিক ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণে যেকোনো প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


