ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে ড্রামেবন্দি খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত আশরাফুল হকের সঙ্গে থাকা বন্ধু এ হত্যায় জড়িত। নিহতের ফোন রেকর্ডে ওই বন্ধুর সঙ্গে অসংলগ্ন কথাবার্তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই ওই বন্ধুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শাহবাগ থানা পুলিশের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশের একটি সড়কে দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রযুক্তির সহযোগিতায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় মেলে। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কাঁচামাল আমদানিকারক।
নিহত আশরাফুলের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি প্রাইম মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম। গত মঙ্গলবার আমাকে দেখে রাত নয়টার দিকে পাশের গ্রামের বন্ধু জরেজকে নিয়ে আশরাফুল ঢাকা যান। জরেজ মালয়েশিয়ায় থাকতেন। কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফিরে জাপানে যাওয়ার জন্য আশরাফুলের কাছে ২০ লাখ টাকা ধার চান।’
‘আমার ছেলে ব্যাবসার জন্য ঢাকায় অনেকের কাছে লেনদেন আছে। সেখান থেকে টাকা নিয়ে জরেজকে দেবেন বলে তাকে সঙ্গে নিয়েই ঢাকায় যান। কিন্তু যাওয়ার পর থেকে আর কোন কথা হয়নি। পরে সন্ধ্যায় জানতে পারি আমার ছেলের খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া গেছে। আমার ছেলেকে কারা হত্যা করল তা জরেজকে ধরলেই সব পরিস্কার হবে’, বলেন আব্দুর রশিদ।

আশরাফুলের স্ত্রী লাকি বেগম জানান, ঢাকায় যাওয়ার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে জরেজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জরেজ তাকে জানান, আশরাফুলের ফোন তার কাছে রাখা। তবে তিনি কোথায় সে প্রশ্নের কোনো জবাব না দেওয়ায় লাকির সন্দেহ হয়। সন্ধ্যায় ওই খণ্ডিত মরদেহ আশরাফুলের নিশ্চিত হলে পরিবারের আরও দুই সদস্য তাকে শনাক্ত করেন।
এসময় হত্যার পেছনে জরেজকে দায়ী করে তার ফাঁসি চান লাকি বেগমও।
আশরাফুলের বোন রাহেলা খাতুন জানান, জরেজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি একেকবার আশরাফুলের অবস্থান সম্পর্কে একেক তথ্য দেন। সেই রেকর্ড ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
বদরগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে আশরাফুল হকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা তার স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো রমনা জোনের ডিসি ও শাহবাগ থানার কাছে দিয়েছি। পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় তার সঙ্গে যে বন্ধু গিয়েছিল তিনি এই হত্যায় জড়িত। এ ঘটনায় ঢাকাতেই মামলা হবে। তবে যেকোনো প্রয়োজনে বদরগঞ্জ থানা সহায়তা করবে।’
এদিকে আশরাফুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, সজ্জন মানুষ হিসেবেই আশরাফুলের খ্যাতি ছিল। নিজের গ্রাম তো বটেই পাশের গ্রামেও তিনি দান-অনুদান দিতেন। এক প্রতিবেশী জানান, ঢাকা যাওয়ার আগে ৪০ শতক জমি একটি কওমি মাদ্রাসার জন্য দান করেন আশরাফুল। মসজিদ কমপ্লেক্সসহ মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য ৫০ হাজার টাকা ইট ভাটায় দিয়েও রেখেছিলেন তিনি।


