কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বের বিভিন্ন নামী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজের মধ্যে রয়েছে রানওয়েকে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা, যার ফলে এখন বড় ও সুপরিসর বিমান অনায়াসেই অবতরণ করতে পারবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) থেকে প্রয়োজনীয় সনদপত্রও গ্রহণ করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের অপারেশনাল সুবিধাদিসহ টেস্টিং ও কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করবে।
অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিয়ে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান।
ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে বিমান বড় অংকের রাজস্ব আয় করছে। উড়োজাহাজ স্বল্পতার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, নেটওয়ার্ক ও ফ্লিট প্ল্যান অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন এবং পুরাতনগুলো বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। বর্তমানে অনলাইন টিকেটিং ও তদারকি বৃদ্ধির ফলে বিমানের ‘অন টাইম পারফরম্যান্স’ (ওটিপি) ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের আপডেট দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টালপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নোয়াখালীতে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ২০২০ ও ২০২১ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ড্যাশ ৮-৪০০ এবং বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য বিমানের কাছে নেই এবং সবকিছু যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।


