টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে।
এতে সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণমান এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী দাবি করেন নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। খুব দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ করা হবে।’
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬ মিটার। বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)-এর অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক যদি মাত্র দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতেই ধসে যায়, তাহলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ধস দেখার পর থেকেই আমরা আতঙ্কিত।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মাজেদ আজাদ জানান, ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ চলছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
তিনি বলেন, ‘আর্চ ব্রিজের সংযোগ সড়কের দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ না করা পর্যন্ত এ সমস্যা থেকে যাবে। শুরু থেকেই বিষয়টি জানিয়েছিলাম।’
সড়ক পাকা করার কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, সেতুর উত্তরপ্রান্তের শহরের মোড় এলাকায় সংযোগ সড়কে ধসের বিষয়টি আমরা দেখেছি এবং ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী ভরাট করে নির্মিত সড়কে ভারী বর্ষণে এ ধরনের ধস অস্বাভাবিক নয়।
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের নিচে বালুমাটি থাকায় টানা বৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে ধসের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকেই শ্রমিক দিয়ে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আজকের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।


