‘জাতি গঠনে কবি-লেখকদের ভূমিকা অপরিসীম’

‘জাতি গঠনে কবি-লেখকদের ভূমিকা অপরিসীম’
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতি গঠনে কবি ও লেখকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

একটি জাতির মানসিক ও নৈতিক কাঠামো নির্মাণে কবি ও লেখকদের ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। সাহিত্যচর্চাই পারে সময়ের পরম্পরায় একটি জাতির সৃজনশীল চেতনাকে নিরন্তর জাগিয়ে রাখতে।

শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতি গঠনে কবি ও লেখকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রথাবিরোধী লেখক সংঘ, ঢাকা এবং কিচিরমিচির শিশু-কিশোর সংগঠন, ঢাকা যৌথভাবে এই আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কবি ও লেখকরাই সৃজনশীল চেতনার দিকনির্দেশক। তাদের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সমাজের অন্তঃস্থলে থাকা সত্য, বেদনা ও স্বপ্নকে ভাষায় রূপ দেন, যা একটি জাতিকে আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয় এবং নতুন দিগন্তের সন্ধান করে। তাদের কলমই সমাজের বিবেককে জাগ্রত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে মানুষকে উদ্দীপ্ত করে।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস তুলে ধরে বক্তারা বলেন, নজরুলের বিদ্রোহী আহ্বান, রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, জীবনানন্দের স্বপ্নবিলাস কিংবা সুকান্তের বিপ্লবী চেতনা সবই জাতি গঠনের একেকটি স্তম্ভ হয়ে আছে।

সভায় বক্তারা মত দেন যে, আজকের বিশ্বায়নের যুগে কবি ও লেখকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। ডিজিটাল যুগে ভাষা, সংস্কৃতি ও মানবিক বোধকে টিকিয়ে রাখতে সাহিত্যচর্চা হতে হবে মুক্তচিন্তা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে। সাহিত্যকে হতে হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানবতার জয়গান।

আরও পড়ুন

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

যৌথভাবে সভাটি উদ্বোধন করেন সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, কবি ও প্রাবন্ধিক, সব্যসাচী কবি মৌসুমী মৌ, গীতিকার, প্রশিক্ষক ও সভাপতি, কিচিরমিচির শিশু-কিশোর সংগঠন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রথাবিরোধী দার্শনিক কবি ও বুদ্ধিজীবী কুমার সুশান্ত সরকার, যিনি উপমহাদেশে অন্যতম প্রাথাবিরোধী কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রথাবিরোধী লেখক সংঘ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি, গীতিকার ও গবেষক মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল-মামুন, কবি ও কলামিস্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগম নাজু।

এ ছাড়া আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সহসভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী এবং কবি ও চিন্তক মির্জা কামাল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad