গাজামুখী নৌবহর ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের ১৪৫ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীর নিরাপত্তা দাবি করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আইরিন খান এক বিবৃতিতে বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলা আটক ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করে ইসরায়েল আবারও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
বুধবার ভোরে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ও সামরিক হেলিকপ্টার ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের ‘কনসায়েন্স’ নামক জাহাজসহ কয়েকটি নৌযানকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করে।
এই ‘কনসায়েন্সে’ বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলমসহ ৯২ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ জন ১০টি দেশের আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী। গাজা অবরোধ ভাঙতে এ নৌযান যাত্রা করে।
আটক ব্যক্তিদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান বলেন, ‘নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের দায়িত্ব হলো আটক সব ব্যক্তির মানবাধিকার নিশ্চিত করা—যার মধ্যে চিকিৎসাসেবা, আইনজীবীর সহায়তা ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত।’
আইরিন খান আরও বলেন, ‘এই সাহসী সাংবাদিকরা ফিলিস্তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য যাত্রা করেছিলেন, যাদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।’
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২৫২ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
আইরিন খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল গাজায় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা ভাঙা।’
‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই দাবি জানাতে হবে, গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আটক হয়েছেন, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের অধিকার রাখেন। ইসরায়েলের দায়িত্ব এসব অধিকারকে সম্মান জানানো।’

ফেসবুকে শহিদুলের ফেক ফটো
এদিকে ঢাকায় শহিদুল আলম প্রতিষ্ঠিত ‘দৃক আর্ট গ্যালারি’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘ফিলিস্তিনি সময় বুধবার আনুমানিক ভোর ৬টায় ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের ‘কনসায়েন্স’ জাহাজ দখল করে ইসরাইলি দখলদার সেনাবাহিনী শহিদুল আলমসহ সব এক্টিভিস্টদের অপহরণ করে। পূর্ব-নির্ধারিত সিদ্ধান্ত মতে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জাহাজে প্রবেশ করার আগেই জাহাজের সকলে (সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, ক্রু) যার যার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ সাগরের পানিতে নিক্ষেপ করে।’
‘এ অবস্থায়, শহিদুল আলমের সাথে দেশের ও বর্হিবিশ্বের সকলের যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন।’
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘এ পরিপ্রেক্ষিতে দৃকের পক্ষ থেকে সবাইকে জানানো হচ্ছে যে, অপহরণের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত কোনো ছবি বা বক্তব্য শহিদুল আলমের নয়।’


