ভারতের সঙ্গে সরকার আপস করলে বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে তার জাতীয়তাবাদী রাজনীতি নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো সমাধানের আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিরোধিতা করেছেন।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপি আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে আপস করে বা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে এগোলে জনগণ তারেক রহমানকে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারক হিসেবে দেখবে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর করা উচিত নয়। তার মতে, এ অবস্থায় এমন সফর হলে বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে ভারতকে শেখ হাসিনা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এর আগে সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত না হলে বর্তমান সরকারের কোনো ম্যান্ডেট নেই। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার, সংস্কার বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবি জানান।
নাহিদ বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমানোর দাবিতে এনসিপি আন্দোলন জোরদার করবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব দাবিতে রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন তিনি।
সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার পরই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়ে এগোনো উচিত।


