জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি খাতে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই পরিকল্পনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০ ধরনের সরকারি সেবা ও সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা গ্রহণ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, শস্য বিমা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজারের সর্বশেষ তথ্য। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও চাষযোগ্য জমি হ্রাসের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনাতন পদ্ধতির বদলে প্রযুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ জরুরি।
এ লক্ষ্যে সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ট্রাক্টর ও হারভেস্টারের মতো যন্ত্রপাতিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে।
মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া অনুযায়ী ফসল নির্বাচনে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমি আবাদের আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শুধু ধান চাষে সীমাবদ্ধ না থেকে ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রান্তিক চাষিদের রক্ষায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে বীজ ও সার বিতরণে ব্যয় করা হয়েছে, তিনি সংসদকে বলেন।
পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ এবং উত্তরাঞ্চলে রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ ও ‘খামারি অ্যাপস’-এর মতো ডিজিটাল উদ্ভাবন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার, তিনি বলেন।


