অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে বালুতে পুঁতে ৪ কোটি আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি ও সাংবাদিক নেতা

অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে বালুতে পুঁতে ৪ কোটি আদায়, অভিযুক্ত বিএনপি ও সাংবাদিক নেতা
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনি (বামে)ও সাংবাদিক নেতা মফিজ উদ্দিন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

যশোরের অভয়নগরে বালুতে পুঁতে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত এক বিএনপি নেতা ও স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করায় সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম শাহনেওয়াজ  কবীর টিপু। তিনি নওয়াপাড়ার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বলে জানা গেছে।

অভিযুক্তরা হচ্ছে, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি ও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন।

ঘটনার বিচার চেয়ে গত ৩১ জুলাই অভয়নগরের রাজঘাট সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন ব্যবসায়ীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন। তার অভিযোগ, ৩০ জুলাই তিনি অভয়নগর থানাতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি।

আসমা খাতুন জানান, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টার দিকে তার স্বামীকে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির অফিসে ডেকে নিয়ে যায় সৈকত হোসেন হিরা নামের এক ব্যক্তি। সেখানে আসাদুজ্জামান জনি তার স্বামী শাহনেওয়াজ টিপুকে মারধর করেন এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা দাবি করেন।

এরপর তিনি সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে আসাদুজ্জামান জনির প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে দুই কোটি টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস করেন। টাকা পাওয়ার পর তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কয়েকদিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর আবারও অস্ত্রের মুখে টাকা দাবি করে দুর্বৃত্তরা।

আসমা খাতুনের অভিযোগ, সেদিন সকাল ৯টার দিকে তার স্বামী টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেলে করে বাজারে যাচ্ছিলেন‌। পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট পার হলে সৈকত হোসেন হিরা তার গতিরোধ করেন। এরপর বেলা ৩টা পর্যন্ত টিপুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

পরে আসমা জানতে পারেন, টিপুকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির মালিকানাধীন কনা ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে যান আসমা।

সেখানে আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেন ও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে টিপুকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আসমা। তিনি জানান, সে সময় বুক পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে বালু চাপা দিয়ে রাখা হয় টিপুকে। তাদের কাছে আরও দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়।

আসমা জানান, এসময় টিপু তার ম্যানেজারকে টেলিফোন করে টাকা দিতে বলেন। এরপর ম্যানেজার সাংবাদিক মফিজের অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা পাঠান। পাশাপাশি চেকের মাধ্যমে আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হয়। ওই সময় জনির নামে কেনা তিনটি ও দীলিপ সাহার নামে কেনা তিনটি ১০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই  করিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর কাউকে না বলার শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আসমার অভিযোগ, এই ঘটনা জানাজানি হলে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয় জানতে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে জনির বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে এখন আমাদের কেউ না। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায় সম্পর্কে কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে তার কর্মকাণ্ডের কোনো দায় দল নেবে না।’

আরেক অভিযুক্ত নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শাহনেওয়াজ  কবীর টিপুর সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময় ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। তবে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক আমি কোনো টাকা নিইনি।’

শাহনেওয়াজ টিপুকে মারধর ও জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনায় একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম।

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী টিপুর স্ত্রী থানায় অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad