বর্তমানে সংসদ ও গণতন্ত্রকে বাইপাস করার চেষ্টাও হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নতুন নতুন ধারণা দিয়ে সংসদ ও গণতন্ত্রকে বাইপাস করার চেষ্টাও হচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সংসদের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হতে হবে।’
বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।
আব্দুল মান্নানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, ‘মান্নান ভাই ছিলেন একজন প্রফেশনাল, যিনি রাজনীতির বাইরে থেকেও সফলতার ছাপ রেখেছেন। তিনি রোটারি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে সমাজসেবায় অবদান রেখেছেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের যে মৌলিক চেতনা তা গভীরভাবে ধারণ করতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেকেই এমপি বা মন্ত্রী হচ্ছি, কিন্তু জনগণের হৃদয় ছুঁতে পারছি না। সেখানে মান্নান ভাই তার সততা, দক্ষতা ও মানবিক নেতৃত্বে অনেক এগিয়ে ছিলেন। তিনি বুঝতেন সংসদীয় পদ্ধতির মূল দর্শন কোথায় নিহিত চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স, কমিটির জবাবদিহিতা, উন্মুক্ত হিয়ারিং। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে এই পার্লামেন্টারি প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে গেছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মান্নানের মেয়ে মেহনাজ মান্নান। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো দলীয় পদে ছিলাম না, কিন্তু দল ও বাবাকে ভালোবেসে সবসময় দলের পাশে ছিলাম। আমার স্বামী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। বাবার রেখে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হতেন।’
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের মুখে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে গুলশানের অফিসে রাত কাটাতে হয়েছে। আমার মেয়ের গলায় গুলির চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। আন্দোলনের এই সময়ে আমরা সবাই কমবেশি কষ্টের ভেতর দিয়ে গেছি।’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ আব্দুল মান্নানকে একজন ‘প্রজ্ঞাবান ও গণতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনীতিতে যখন শিষ্টাচার হারিয়ে যাচ্ছে, তখন মান্নান চাচার মতো একজন নেতার অভাব প্রতিনিয়ত অনুভব করি। তিনি ছিলেন এমন একজন রাজনীতিক, যিনি নিজের আদর্শ ও নীতিতে অবিচল ছিলেন এবং নেতাকর্মীদের ভালোবাসতেন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকার জনগণ এবং মান্নান নিলুফা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।


