প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে দেওয়া অনুদানের ২০ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার ক্রীড়া ও উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা করিম নেলি, সহসভাপতি ফিরোজা খাতুন এবং সদস্য এলিনা শাম্মীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা জানান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে এবং তৎকালীন মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিঞার স্বাক্ষরিত এক আদেশে সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখা থেকে এই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়।
তবে এই অর্থ প্রত্যাহারের বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী কিংবা কার্যনির্বাহী কমিটির কাউকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল এবং ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় চেকে মোট ২০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হয়।
শর্তানুযায়ী, ওই এফডিআরের লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ টাকা দেশের নারী ক্রীড়া উন্নয়নে ব্যয় এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল সিড মানির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ২০২৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই লভ্যাংশ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছিল।
এরপর হঠাৎ করে লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে সংস্থা থেকে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ৬ মে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও হিসাবরক্ষক সশরীরে ব্যাংকে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার এই অনুদান বাতিল করে অর্থ প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছে।
নারী ক্রীড়া, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথকে বাধাগ্রস্ত না করে অতি দ্রুত এই ২০ কোটি টাকা বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানান শুক্লা।
একই সঙ্গে কোনো নিয়মে এবং কেন এই অনুদানের টাকা কেড়ে নেওয়া হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


