কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ২৫০ ছাড়াল, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ২৫০ ছাড়াল, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
ধ্বংসস্তুপে চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের এক দিন পরও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান। জীবিতদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারে রাতভর কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। সরকারি হিসাবে, ভূমিকম্পে দেশজুড়ে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পেরেইরা ও কালি শহরে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের হিসাবে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েক ডজন ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকারের হিসাবে, শহরটিতে ৪৫টি ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।

শত শত স্বেচ্ছাসেবকও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা হাতুড়ি, বেলচা ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কংক্রিটের স্তর সরিয়ে ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

ভূমিকম্পে কালির বহু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে ঢুকছেন বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে একটি আফটারশকের সতর্কসংকেত বেজে উঠলে কয়েকজন বাসিন্দাকে ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনের হাতে ছিল টেলিভিশনসহ মূল্যবান সামগ্রী।

আরও পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের শহরে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এর আওতামুক্ত।

ভূমিকম্পের পর অনেক উদ্ধারকর্মী এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নেননি। স্বেচ্ছাসেবক ক্রিস্তিয়ান নিভেস বলেন, ‘আমরা থামিনি। সারা রাত ধরে কাজ করেছি।’

এদিকে ভূমিকম্প মোকাবিলা নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য প্রথম বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার কালিতে শপথ নেওয়া এই প্রেসিডেন্ট ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বুয়েনাভেনতুরার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা সেখানে যথেষ্ট পৌঁছাচ্ছে না। উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক হেরেরা বলেন, সহায়তার অভাব নয়, বরং বড় সমস্যা হচ্ছে সমন্বয়ের ঘাটতি।

তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধান লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধার করা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর