হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, ৫০ গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা 

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, ৫০ গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা 
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে দেড় মাসের ব্যবধানে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে।

রোববার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির প্রবল স্রোতে কালীগঞ্জ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

ইতোমধ্যে সুঘর, চরহামুয়া, বনগাঁও, আদ্যপাশসহ কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যেই আরও ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। তখন মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

আরও পড়ুন

ওই ভাঙনের পর হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি মেরামতের কাজ শুরু করে। তবে দীর্ঘ ৪৩ দিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, বাঁধ মেরামতের কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের কারণেই নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধটি আবারও ভেঙে গেছে।

ছবি: টাইমস

সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘সঠিক সময়ে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয়বার ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে। বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

চরহামুয়া গ্রামের আব্দুল হক বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙে গেল। গত বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটি তারা এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেননি।’

বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, ‘বাঁধ মেরামতের কাজে কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে। তা না হলে বাঁধ মেরামতে এতদিন লাগার কথা নয়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে উচ্চ বেগে পানি প্রবেশ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাঁধটি ভেঙে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে।’

বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad