জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর রিভিউ আবেদন খারিজ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য হলেন- জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য শেষে আগামী সোমবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত। প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার এ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
জাসদ সভাপতি ইনুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আসামি করা হয়। ওই বছর ২৬ আগস্ট ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘সো-কলড’ বা তথাকথিত অভ্যুত্থান দাবি করে ২৭ নভেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন তিনি।
তবে তার এমন মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল’ হিসেবে উল্লেখ করে এ আবেদন বাতিল করার আবেদন করে প্রসিকিউশন। ওই দিন এ বিষয়ে আংশিক শুনানি শেষে আবেদনের আদেশের জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, হাসানুল হক ইনুর মতে, জুলাইয়ে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই।
তিনি বলেন, ‘অথচ এ সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বা জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমেই গঠিত হয়েছে। এছাড়া জুলাই বিপ্লবকে সো-কল্ড বলে আখ্যায়িত করেছেন ইনু। সরকার জুলাইয়ে অপরাধে জড়িতদের সবাইকে “ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি” দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কিন্ত সরকার কাউকেই দায়মুক্তি দেয়নি। তাদের এমন কথা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।’
গত ২ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
ওই দিন ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। তবে হাসানুল হক ইনু নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করেন।


