সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ও পিপিআরসির যৌথ গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের মূল সংকট অর্থের অভাব নয়, বরং সততা ও নৈতিকতার ঘাটতি। দায়িত্বশীলতার অভাব ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। এ সময় তিনি টেন্ডার কারসাজির সিন্ডিকেট ও অপরিকল্পিতভাবে কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কিনে তা অকেজো ফেলে রাখার কঠোর সমালোচনা করেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসে, প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ওষুধ ও সেবা মিলছে না। উপজেলা পর্যায়ে জরুরি ওষুধের প্রাপ্তি মাত্র ২২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৪০ শতাংশ পদ শূন্য।
স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন, বিভাগীয় শহরে ক্যানসার ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ এবং চীনের সহায়তায় বিশেষায়িত হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮০ হাজার নারী মিডওয়াইফসহ এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু হবে।


