মধ্য বাড্ডায় আফরোজা হত্যায় ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের মৃত্যুদণ্ড

মধ্য বাড্ডায় আফরোজা হত্যায় ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের মৃত্যুদণ্ড
আফরোজা হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক মো. হৃদয় ব্যাপারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ মে মধ্য বাড্ডার একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই মো. আল আমিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অনলাইন জুয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন হৃদয়। সেই দেনা পরিশোধ এবং অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে তিনি পরিকল্পিতভাবে আফরোজা সুলতানাকে হত্যা করেন।

আরও পড়ুন

তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নয় ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা ছুরি, লুণ্ঠিত ২২ দশমিক ৩৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু এবং লুট করা ৫০০ টাকা উদ্ধার করেন।

এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ফরেনসিক প্রতিবেদনে হত্যার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। পরে আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চার্জ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (লিটন)।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং সমাজে গুরুতর অপরাধ দমনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad