শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
গত সোমবার রাত ১১টায় নড়িয়ার আচুড়া গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে ঘটনাটি ঘটে। ৯৯৯-এর কল টেকার কনস্টেবল বিল্লাল হোসেনের কাছে আসা ফোনকলে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে এক নারীর ওপর নির্যাতনের তথ্য জানা যায়। ৯৯৯-এর পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে নড়িয়া থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর স্বামী রাজিব আহমেদ খানকে মোবাইল ফোনে আচুড়া গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে ডাকেন পরিচিত হযরত আলী খন্দকার। সেখানে পৌঁছানোর পর হযরত আলী খন্দকার, রাব্বি ও ইমন খন্দকারসহ অজ্ঞাত তিন-চারজন রাজিবকে বেঁধে ফেলেন। দুর্বৃত্তরা রাজিবকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোর স্ত্রীকে ফোন দিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বল তাহলে তোকে ছেড়ে দেব।’
এরপর রাজিব স্ত্রীকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। আটিপাড়া থেকে অটোযোগে ভুক্তভোগীকে আনার পর দুর্বৃত্তরা রাজিবকে মারধর করেন। সহযোগীদের সহায়তায় হযরত আলী খন্দকার ও মো. রাব্বি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন।
৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ, নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জোবায়ের হোসেন ও ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়।
পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পালং থানার আটিপাড়া গ্রামের আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকার, নড়িয়া থানার আচরা গ্রামের মৃত আলমগীর বেপারীর ছেলে মো. রাব্বি ও সহযোগী আসামি মালেক খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


