সব হল বন্ধ, ব্যতিক্রম ঢাবির ইন্টারন্যাশনাল হল

সব হল বন্ধ, ব্যতিক্রম ঢাবির ইন্টারন্যাশনাল হল
Advertisement
Advertisement

গত দুই দিনের ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ রোববার থেকে সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ত্যাগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে এই নির্দেশ সব হলে কার্যকর হলেও ব্যতিক্রম দেখা গেছে স্যার পি জে হার্টজ ইন্টারন্যাশনাল হলে।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হলের পাশাপাশি নতুন, তুলনামূলক নিরাপদ হলগুলোকেও খালি করা হলেও ১৯৬৬ সালে নির্মিত এই আন্তর্জাতিক হলে কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কোনো সতর্কবার্তা বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিপরীতে হল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘আতঙ্ক নেই’, তাই হল খোলা রাখা হয়েছে।

তবে হলটির তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশে গিয়ে দেখা গেছে, বারান্দার অন্তত ছয়টি স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। হলের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভূমিকম্পের সময় অন্য হলগুলোর মতো এখানেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

পিজে ইন্টারন্যাশনাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জিগমে রাংদুল দর্জি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো নোটিশ, নিরাপত্তা সতর্কতা বা হল খালি করার নির্দেশ পাইনি।’

আরও পড়ুন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, হলটিতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নেপাল ও ভুটান থেকে আসা, তাই সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের নিজ দেশগুলোতে তারা আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, আর সেসবের তুলনায় ‘এটি ততটা তীব্র ছিল না’।

হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কাউসার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা হলে থাকায় এটি বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও কেন অন্য হলগুলোর মতো হলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোনো আতঙ্ক নেই। ভূমিকম্পের পর এক জায়গায় ফাটল দেখা গেছে, সেটি আগেই ছিল কি না আমরা নিশ্চিত নই।’

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা যেহেতু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন হল প্রভোস্ট। কীভাবে তারা হল ছাড়বেন, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রভোস্টকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের সুবিধা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তার কথাও বলা হয়েছে।

তিনি টাইমসকে বলেন, অন্য হলের শিক্ষার্থীদের বিকাল ৫টার মধ্যে বের করা গেলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাই তাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন হল প্রভোস্ট।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad