আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবনে মিলেছে একটি ‘রহস্যময় ড্রোন’। উদ্ধারের পর তা নিয়ে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পাশাপাশি চলছে ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ। বাড়ানো হয়েছে বাসভনটির নিরাপত্তা।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসিফ নজরুলের রাজধানীর রমনায় অবস্থিত সরকারি বাসভবনের সামনে শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি ড্রোন পাওয়া যায়। সেখানে বাগানে আমগাছের নিচে এটি পড়ে ছিল। বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে মালী সালমা হকের। তিনি আইন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে ঘটনা জানান। এরপর খবর দেয়া হয় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের।
খবর পেয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সেখানে পৌঁছে। সিটিটিসি ইউনিটের সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম ড্রোনটি উদ্ধার করে। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে ড্রোনটি সিটিটিসির ফরেনসিক ল্যাবে বিশ্লেষণের জন্য রাখা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে আইন উপদেষ্টার কথিত সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে যখন অপপ্রচার চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তার বাসভবনে ড্রোনের উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হত্যা-গুমসহ নানা অপরাধে সাবেক সরকারের মন্ত্রীসহ প্রভাবশালীদের বিচারের কাজে আইন উপদেষ্টার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানান, চীনের তৈরি ড্রোনটি এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত টিমের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শাহজাহান হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ড্রোনটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের জন্য নিয়ে আসি। প্রাথমিক তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ড্রোনটিতে ক্ষতিকারক কোনও কিছু পাইনি। এতে কোনও ধরনের দৃশ্যমান মেমোরি বা ক্ষতিকারক ডিভাইসও পাওয়া যায়নি।’
‘আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, কোনও ধরনের হামলার উদ্দেশ্যে ড্রোনটি ব্যবহার করা হয়নি। তবে কে বা কারা এটি পাঠিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি,’ যোগ করেন তিনি।
তদন্ত সংশ্লিস্ট এক কর্মকর্তা জানান, ড্রোনটির টেকঅফ ওজন ২৪৯ গ্রাম। নিরাপত্তাজনিত কারণে এর ব্যাটারি খোলা ছিল। উপদেষ্টার বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ২৯ মিনিটে ড্রোনটি সেখানে অবতরণ করে। অবশ্য আশপাশের অন্য সিসিটিভির ফুটেজে এর গতিবিধি ধরা পড়েনি।


