রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনও জড়িত: আইনমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনও জড়িত: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলাও জরুরি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে মানবিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ও জড়িত। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিজ দেশে নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের আলোকে দেশের প্রতি নাগরিকদের কর্তব্য এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

আরও পড়ুন

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধপ্রবণতা ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যোগ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি দেশের জনগণের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষক, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নীতি গবেষণা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের রোহিঙ্গা সংকটের সামাজিক, মানবিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব সুপারিশ সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐকমত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শফিকুল আহমেদ, মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম. হক এবং রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতা, মিয়ানমারের পরিস্থিতি, প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এবং সংকটের টেকসই সমাধানে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad