গৌরবময় ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে শাহীন কেয়ারস ট্রাস্টের যাত্রা

গৌরবময় ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে শাহীন কেয়ারস ট্রাস্টের যাত্রা
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

‘একসঙ্গে গড়ি গৌরবময় ভবিষ্যৎ’—এই লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে শাহীন কেয়ারস ট্রাস্ট (এসসিটি)। বিএএফ শাহীন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত এটি একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী ক্লাবে ট্রাস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্য দিয়ে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মানবিক সহায়তা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএএফ শাহীন কলেজের ১৯৮৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে এ ট্রাস্ট। এর আগে দুই বছর ধরে বিস্তারিত আলোচনা, সভা ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

‘শিক্ষা, সংযম, শৃঙ্খলা’ মূলমন্ত্র ধারণ করে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চায় এসসিটি।

বাংলাদেশ, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিভিন্ন প্রজন্মের শাহীনদের যুক্ত করার একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবেও কাজ করতে চায় ট্রাস্টটি।

কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। তাদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।

স্বাগত বক্তব্যে শাহীন কেয়ারস ট্রাস্টের চেয়ারপারসন দাতা মাগফুর কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং সমাজে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, এমন একটি অর্থবহ উদ্যোগে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত।’

‘জার্নি অব ৮৯’ পর্বে ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শাহনাজ শারমীন ট্রাস্ট গঠনের পেছনের গল্প তুলে ধরেন।

ছবি: সৌজন্যে

তিনি জানান, নিজ নিজ পেশাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার পর সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়। সেখান থেকেই ভাবনা আসে ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে পর্দার আড়ালে কাজ করা প্রবাসী বাংলাদেশি বন্ধু ও দেশে থাকা সহপাঠীদের সহায়তার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে ‘দ্য জার্নি অব ৮৯’ শিরোনামের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এতে তাদের যৌথ স্মৃতি ও ট্রাস্ট গঠনের পেছনের গল্প উঠে আসে।

সন্ধ্যার আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল ট্রাস্টিদের অংশগ্রহণে কেক কাটার পর্ব। এর মধ্য দিয়ে ট্রাস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনলাইনে ও বিশ্বজুড়ে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ট্রাস্টের ওয়েবসাইটও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

উদ্বোধনের পর এসসিটির সাধারণ সম্পাদক সুমনা বিনতে মাসুদ ট্রাস্টের কৌশলগত লক্ষ্য ও কার্যক্রমের পাঁচটি মূল স্তম্ভ তুলে ধরেন।

এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের দক্ষতা অর্জন, সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করা। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং প্রবীণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই যত্নব্যবস্থা গড়ে তোলাও ট্রাস্টের কাজের অংশ।

অন্য দুটি স্তম্ভ হলো প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব ও শাহীন কমিউনিটি কেয়ার। প্রথমটির আওতায় অলাভজনক সংস্থাগুলোর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং নিজস্ব আয়ের উৎস গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে। শাহীন কমিউনিটি কেয়ারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত প্রয়োজনের সময়ে প্রাক্তন শিক্ষকসহ বৃহত্তর শাহীন পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো।

সুমনা ট্রাস্টের কৌশলগত অংশীদার সাতারকুল প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার (এসপিইউএস) পরিচয় তুলে ধরেন। দুই সংস্থার সহযোগিতার কাঠামোও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

শাহীন কেয়ারস ট্রাস্ট ও এসপিইউএস তাদের প্রথম যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। ঢাকার সাতারকুলে ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এসসিটির পক্ষে সুমনা এবং এসপিইউএসের পক্ষে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বলা বণিক সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উজ্জ্বলা বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সবাই এভাবে এগিয়ে এলে তাদের সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে এই অংশীদারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সহযোগিতা আমাদের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছে।’

এসপিইউএসের শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।

অনুষ্ঠানে বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকার প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসসিটির কোষাধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান নাসের খানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। তিনি সেবার এই চেতনায় সব প্রাক্তন শাহীনকে ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad