সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে দুপুর পর্যন্ত সাতটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ রুটের দুটি ফ্লাইট। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে দেশটির বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটও।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) রোববার জানায়, রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগেই রাতের ফ্লাইট বাতিলের কথা জানিয়েছিল।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর ভোর ৩টা পর্যন্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরণের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথিদের সবশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে সৌদি জোট।
এদিকে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী রোববারের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছে কুয়েত এয়ারওয়েজ।
বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখায় রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে আসার নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে রোববার কুয়েতের আরেক বিমান সংস্থা জাজিরা এয়ারওয়েজ জানায়, রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে আসা তাদের ফ্লাইট পরিচালনাও ব্যাহত হয়েছে।
আঞ্চলিক লড়াই শুরুর পর উপসাগরীয় এলাকায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সম্প্রতি হুথি ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টার্মিনাল ৩ ও ৪-এ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
সৌদি সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি দেখা গেছে।
গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে একাধিক হামলা হলো। হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিল সৌদি আরব। তবে এই ঘটনার পর সামরিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে দেশটি।


