নিয়োগের ২১ দিন পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও ভিপি রিয়াসাদ হাসান সুমন, জিএস শফিকুল ইসলাম খান, সাবেক কালচারাল সেক্রেটারি নাসিম হাসানসহ আরও অনেকে।
রিয়াসাদ হাসান সুমন টাইমসকে বলেন, ‘আজকে সকালে ক্যাম্পাসে আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থীরা যখন বুঝতে পারে গুটি কয়েকজন শিক্ষক তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করতেছে তখন থেকে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসে। কোনো ধরনের বাধা ছাড়া আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
রোববারও বেলা ১১টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির জরুরি সভায় অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২০ দিনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, মুখোশ মিছিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রতিবাদী কনসার্টসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। এতে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিয়োগের পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা যায়। তবে এরপর থেকে ক্যাম্পাসে তার সরাসরি উপস্থিতি কিংবা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয় যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে।


