চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির দাবিতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন।
লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইব্রাহিম রনির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে তার বক্তব্য এবং পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উপহাস এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা, গ্রেপ্তার, কারাবাস ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অতীতে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
ছাত্রদলের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে ক্যাম্পাস দখল, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দাউদ সালমানের ওপর হামলার মাধ্যমে দলীয় স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে। সংগঠনটি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে মতের পার্থক্য থাকবে, রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবে; কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের সম্মান নিয়ে উপহাস থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় ছাত্রদল।
এ ছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেবে না বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রদলের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বক্তব্যের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, পবিত্র কোরআনের আয়াত এবং খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, ছাত্রশিবিরের অতীত ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যাখ্যা দেওয়া, ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করা, ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ভুয়া ফেসবুক পেজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।


