বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে পোস্টার সাঁটিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘স্বাধীনতা তুমি রবি ঠাকুরের অজর কবিতা অবিনাশী গান।’
গতকাল সোমবার বিকালে তারা এ পোস্টার সাঁটান। এর আগে রোববার রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে লেখেন, ‘রবীন্দ্রনাথ হওয়া এতো সোজা না! ৪৩টা পতিতালয় চালাইয়া, কাস্টমার রিভিউ ঠিক রেখে আবার সাহিত্যসাধনা করা চাট্টেখানি কথা না।’ এ ছাড়া রবীন্দ্রসংগীত ব্যঙ্গ করে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের অবমাননার প্রতিবাদে রাকসু ভবনে ছবিসহ পোস্টার সাঁটান শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি।
তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে এমন আপত্তিকর বক্তব্য আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও চেতনার প্রতি অসম্মান। আমার মনে হয়, এ ধরনের বিদ্বেষের পেছনে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের সংকট কাজ করে। যারা বাংলাদেশের জন্ম ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরোধিতা করেছে, তাদের মধ্যেই এই সংকটের প্রতিফলন দেখা যায়।’
পোস্টার সাঁটানোর কারণ হিসেবে কাফি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে বলেছিলাম, ‘রবীন্দ্রনাথকে হারাতে দেব না।’ এই বক্তব্যে তিন হাজারের বেশি ভোট পেয়েছি। সেই ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও একজন বাঙালি-বাংলাদেশি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অসম্মানের প্রতিবাদে এই নীরব অবস্থান।’
আম্মারের এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আম্মার যে অভিযোগগুলো করছেন, সেগুলোর পেছনে কোনো প্রমাণ বা তথ্যসূত্র নেই। মনগড়া অভিযোগ তুলে বিভিন্নভাবে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রচণ্ড ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িকতা লুকিয়ে আছে।’
আম্মারের বিচার দাবি করে ফুয়াদ রাতুল আরও বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। শিক্ষার্থীদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
নিজের ফেসবুকে পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আদিত্য রায় রিপন লেখেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ হওয়া এতো সোজা না’ এটা যেমন ঠিক, তেমনি একাধারে ‘ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’, ‘রাম ছাগল’, ‘ভোদাই’, ‘বিশিষ্ট বোকাচোদা’, ‘ধুরন্ধর’ ইত্যাদি হওয়াও কিন্তু চাট্টিখানি কথা না। এসব আপনি একাই হয়ে দেখিয়েছেন, যা এক কথায় অবিশ্বাস্য!’
আরেক শিক্ষার্থী মাতিন আকন্দ বলেন, ‘কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন জিএসের এমন দাবি করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।’
রবীন্দ্রসংগীত ব্যঙ্গ করার প্রসঙ্গে আম্মার বলেন, ‘আমি রবীন্দ্রসংগীত পারি, তাই পোস্ট করেছি। রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করব কেন? আমরা যখন থিয়েটার করতাম, তখন নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীতসহ বিভিন্ন গান নিয়ে প্যারোডি করতাম।’
রবীন্দ্রনাথ সংক্রান্ত পোস্টটির বিষয়ে আম্মার বলেন, ‘পোস্টটি মূলত তার মেধার প্রশংসা করেই করা। একজন মানুষের মস্তিষ্ক এতটা তীক্ষ্ণ হতে পারে, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি তাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেই পোস্টটি করেছি।’


