চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অবরুদ্ধ নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার দুপুরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে চিকিৎসকদের পরিমাপে রক্তচাপের ভিন্নতা দেখা যায়। পরে বিষয়টি যাচাই করতে আবারও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমসহ কয়েকজন সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভবনের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শেখ শরীফুল আলম একটি আলাদা কক্ষে ছিলেন। তার সঙ্গে ওই কক্ষে আরও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। পাশের আরেকটি কক্ষেও কয়েকজনকে দেখা যায়।
গণমাধ্যমকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে প্রথমে তিনি রাজি হননি। পরে নিজ কক্ষের দরজার সামনে থেকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’
প্রথম দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে না পেরে প্রথমে চিকিৎসকরা ফিরে যান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আবার চিকিৎসক দেখানোর আগ্রহ জানালে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক মো. সাহাবউদ্দিনকে উপাচার্য ভবনে নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘আমি তার নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছি। বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আমার কাছে বুকে ব্যথা অনুভবের কথা বলেননি। হাসপাতালে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।’
এরপর দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) টিবলু কান্তি দে উপাচার্য ভবনে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন।
বুকে ব্যথা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য তাকে জানান, সকাল ১০টা থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে ব্যথা কমে এসেছে। এ সময় তিনি নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন না বলেও জানান। কোন ওষুধ সেবন করেন, তা জানতে চাইলে ওষুধটির নাম স্মরণ করতে পারেননি।
প্রথমে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৪০/১০০ মিলিমিটার পারদচাপ (মিমি পারদ) পরিমাপ করেন চিকিৎসক টিবলু কান্তি দে। পরে বাইরে এসে তিনি রক্তচাপ ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে জানান। একই সঙ্গে উপাচার্যের বুকে ব্যথা অনুভবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পুনরায় পরীক্ষায়ও রক্তচাপের পরিমাপে পার্থক্য
দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা ও রক্তচাপের পরিমাপে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় আবারও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে চুয়েটের চিকিৎসক সাহাবউদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক টিবলু কান্তি দে আবারও তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও দুই চিকিৎসকের পরিমাপেও পার্থক্য পাওয়া যায়। উপাচার্যের ডান হাতে রক্তচাপ ১৪৫/১০০ মিমি পারদ পরিমাপ করেন টিবলু কান্তি দে। একই হাতে ডা. মো. সাহাবউদ্দিন রক্তচাপ পান ১৩৯/১০০ মিমি পারদ।
অন্যদিকে, বাম হাতে রক্তচাপ পরিমাপ করে ডা. টিবলু কান্তি দে পান ১৩৫/১০০ মিমি পারদ। একই হাতে সাহাবউদ্দিনের পরিমাপে রক্তচাপ ছিল ১২০/৮০ মিমি পারদ।
দুই দফার পরীক্ষায় রক্তচাপের পরিমাপে এই পার্থক্য দেখা গেলেও উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দুই চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন কিংবা পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।


