সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলায় দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
স্থানীয় সময় রোববার ভোরে সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন তিনশতাধিক, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলায় হতাহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের, বিশেষ করে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে আহত সবার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
পাশাপাশি অবিলম্বে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ, বেসামরিক জনগণ ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত এবং চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশ সরকার বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে সৌদি জোট। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় এলাকায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সম্প্রতি হুথি ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টার্মিনাল ৩ ও ৪-এ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
সৌদি সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও দুজন বাংলাদেশি, একজন ফিলিস্তিনি, একজন মার্কিন, একজন মিসরীয়, একজন জর্ডানি, একজন সিরীয় ও একজন সুদানি রয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


