রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মোসাব্বিরের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. আয়শা পারভীন।
মোসাব্বিরের বাবার নাম খলিলুর রহমান। তিনি পশ্চিম কারওয়ান বাজারের গার্ডেন ভিউয়ের বাসিন্দা। ২ মেয়ে ও ১ ছেলের বাবা ছিলেন তিনি।
সুরাইয়া বেগম জানান, গত ২০ বছর ধরে তেজগাঁও এলাকায় পানির ব্যবসা করতেন মোসাব্বির। এটা নিয়ে কোনো ঝামেলা ছিল না। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় ব্যবসা ছেড়ে দেন। পরে তিনি পুরোপুরি রাজনীতি নিয়েই থাকতেন জানিয়ে সুরাইয়া বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তার পদ স্থগিত ছিল। দুই দিন আগে সে আমাকে বলছিল, আমার স্থগিতাদেশ বেশি দিন থাকবে না। শীঘ্রই উঠে যাবে। উঠে গেলে দল আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলবে সেভাবে কাজ করব।’
স্বামী হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে সুরাইয়া বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেবে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে তার মত অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন সুরাইয়া বেগম।

সেচ্ছাসেবক দলের তেজগাঁও থানার সভাপতি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম জানান, সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন মোসাব্বির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার পদ স্থগিত ছিল। এছাড়া, মহানগর উত্তরের দুই বারের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন তিনি। ২৬ নং ওয়ার্ডে ২০২০ সালে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচন করলেও সেবার পাশ করেননি।
রিয়াজুল বলেন, মোসাব্বির রাজনীতিতে শোডাউন একদম পছন্দ করতেন না। বেশিরভাগ সময় দুএকজনকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন। নেতাকর্মীরা দেখা করতে এলে খুব কম কথায় সবাইকে বিদায় দিতেন। মোসাব্বির গুলিবিদ্ধ হওয়ার জায়গাতেই বেশিরভাগ সময় আড্ডা দিতেন বলেও জানান রিয়াজুল।
বুধবার রাতে ৮টা ৪০ মিনিটের কারওয়ান বাজারে স্টার হোটেলের সামনে গুলিবিদ্ধ হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মোসাব্বির। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন, তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হায়দার আলী।
প্রতিবেদনে তিনি মোসাব্বিরের পেটে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছিদ্র হওয়ার চিহ্নের কথা উল্লেখ করেন।


