গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় বিষ প্রয়োগে অন্তত ৫০ বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩০ জন কৃষক ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শৌলকোপা বিল এলাকায়।
এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শৌলকোপা বিল এলাকায় কয়েক’শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা। ভালো ফলনের আশায় নিয়মিত সেচ, সার ও পরিচর্যা করা হচ্ছিল। তবে কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই পেঁয়াজ গাছে গোড়াপচা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পরিবারগুলো। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ক্ষতি কমানোর পরামর্শ দিচ্ছে, আর পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, অনেকেই ধার-দেনা, ব্যাংকঋণ ও এনজিও থেকে অর্থ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। ফসল ঘরে তোলার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি ছিল। এমন সময় এই ক্ষতির ঘটনায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এখন ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবার-পরিজন নিয়ে সারা বছর কীভাবে চলবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাইজিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা অন্য এলাকা থেকে জমি নিয়ে চাষ করেছি। কেউ দুই, কেউ তিন, আবার কেউ পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কয়েক দিন পরই পেঁয়াজ তুলতাম। এরমধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।’
ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্যারাকুয়েট জাতীয় আগাছানাশক প্রয়োগের কারণে গাছগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। কৃষকদের জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে, পটাশ প্রয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে আংশিক ক্ষতি রোধ করা যায়।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে আসামি করে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। কৃষকরা বলছেন, কৃষিজমিতে এ ধরনের নাশকতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি।


