গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ১০ জন দেহরক্ষীর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে তার আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনের শুনানি ঘিরে আদালত চত্বরে সাংবাদিক ও উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড়, হুড়োহুড়ি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের টানাহেঁচড়ায় একপর্যায়ে মেজাজ হারান তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আদালত প্রাঙ্গণেই নিজের ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমনি। আদালতের কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত কিছুক্ষণ গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করেন তিনি। এ সময় কালো পোশাক পরা অন্তত ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী গাড়িটি ঘিরে রাখেন।
পরে আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তাকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত সাংবাদিক ও উৎসুক জনতা। ভিড় ঠেলে সামনে এগোতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের টানাহেঁচড়া ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে বিরক্তি প্রকাশ করে মেজাজ হারান পরীমনি। তার আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে পুরো প্রাঙ্গণে তৈরি হয় বাড়তি উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা।
এরপর শুনানিতে ৫০০ টাকার মুচলেকায় পরীমনির জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
এর আগে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে আদালতে হাজির হননি পরীমনি। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত তার সময়ের আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সঙ্গে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই সাভার থানায় পরীমনিসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার অপর আসামি পরীমনির সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমি।
২০২৫ সালের ২৬ জুন মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। তবে ওই দিন আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে বিনা মূল্যে তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদের পার্সেল না পেয়ে নাসির উদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হন পরীমনি। একপর্যায়ে তাঁর দিকে অ্যাশট্রে ছুড়ে মারলে নাসির উদ্দিনের ডান কানের ওপর মাথায় আঘাত লাগে। এ ছাড়া ক্লাবের বারের ভেতরে ভাঙচুর চালান তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বারের ভেতরে ভাঙচুরে বাধা দিলে পরীমনির সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমি নাসির উদ্দিনকে কিল-ঘুষি মারেন এবং ভয়ভীতি দেখান।
এদিকে, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে যাওয়ার পরই পরীমনি ও নাসির উদ্দিনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনার কয়েক দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে পরীমনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ১৩ জুন মামলা করেন তিনি। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন নাসির উদ্দিন। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরীমনির করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলাটির বিচার বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।


