বিশ্বজুড়ে জাপানি অ্যানিমের জনপ্রিয়তা যে ক্রমেই বাড়ছে, তার প্রমাণ মিলেছে সদ্য প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে।
২০২৫ সালে জাপানের অ্যানিমে শিল্পের আয় দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের তুলনায় ইয়েনের হিসাবে আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
এবারের আয়ের বড় অংশই এসেছে বিদেশের বাজার থেকে। বিদেশে অ্যানিমে শিল্পের আয় প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এসেছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, দেশের বাইরের বাজারই এখন জাপানি অ্যানিমে শিল্পের আয়ের প্রধান উৎস।
‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানিজ অ্যানিমেশন অ্যাসোসিয়েশন (এজেএ) তাদের ‘অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পাশাপাশি আয়োজিত কনটেন্ট বাজার টিআইএফএফকমের শেষ দিনে অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক অধিবেশনে প্রতিবেদনটির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
সিনেমা মুক্তি, স্ট্রিমিং, টেলিভিশন স্বত্ব, লাইসেন্সিং, পণ্য বিক্রি এবং অ্যানিমে-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান—সব খাতের আয় হিসাব করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালেই প্রথমবারের মতো জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারকে ছাড়িয়ে যায় বিদেশের বাজার।
এবারের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে ‘ডিমন স্লেয়ার: কিমেৎসু নো ইয়াইবা-দ্য মুভি: ইনফিনিটি ক্যাসল’। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। যদিও এই আয়ের কিছু অংশ এসেছে ২০২৬ সালে। শুধু জাপানেই সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ২৫ কোটি ডলার বা ৪ হাজার কোটি ইয়েন। এর মধ্য দিয়ে এটি জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা অ্যানিমে ও চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আগের সিনেমাটিও জাপানে ৪ হাজার কোটি ইয়েন আয় করেছিল, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এবারকার মতো সাফল্য পায়নি।
জাপানিজ অ্যানিমেশন অ্যাসোসিয়েশন ও নিপ্পন অ্যানিমেশনের প্রেসিডেন্ট কাজুকো ইশিকাওয়া বলেন, অ্যানিমে শিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য সবার আগে নির্মাতা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে তারা নিশ্চিন্তে গল্প ও নির্মাণের কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন।
জাপান সরকার ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশটির সৃজনশীল ও মেধাস্বত্বভিত্তিক কনটেন্টের বিদেশি বাজার থেকে ১৩০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আইপি৩৬০ কৌশলের আওতায় এই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অ্যানিমে শিল্পের অবদান রাখার কথা ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন।
এদিকে অ্যানিমে নির্মাণকারী স্টুডিওগুলোর আয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ খাতে আয় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.২ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে বিদেশি স্টুডিওগুলোর আয় রেকর্ড ৮৮০ মিলিয়ন ডলার।
অ্যানিমের জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রমাণ মিলেছে আইএমডিবির টেলিভিশন র্যাঙ্কিংয়েও। ব্যবহারকারীদের ভোটে তৈরি এই তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘অ্যাটাক অন টাইটান’। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘ডেথ নোট’। তালিকায় এর ওপরে ও নিচে রয়েছে যথাক্রমে ‘রিক অ্যান্ড মর্টি’ ও ‘দ্য সিম্পসনস’।
এর আগের বছরও জাপানি অ্যানিমে শিল্পের আয় প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ২০০২ সালে জাপানিজ অ্যানিমেশন অ্যাসোসিয়েশন শিল্পটির আয়-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ শুরু করার পর থেকে বাজারটি প্রায় তিন গুণ বড় হয়েছে।


