নারায়ণগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি করে হোসিয়ারী শ্রমিক রাসেলকে (১৭) হত্যা করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ সময় সাক্ষী দিয়েছেন নিহত রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শী দেওভোগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালত দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। সাক্ষীদের মতে রাসেলকে শামীম ওসমানই তার দলবল নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। এ মামলার রায়ে নিহত রাসেলের বাবা আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছেন। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতে মামলার সাত আসামি উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার অন্যতম আসামি শামীম ওসমানসহ ২৭ জন পলাতক রয়েছেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ডিসেম্বর।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান বলেন, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের রাসেল হত্যায় কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেই প্রতিয়মান হয়েছে। একইসঙ্গে জেরায় বাদী বলেছেন, পুলিশের লেখা এজাহারে তিনি শুধু সই দিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ মার্কেটের সামনে গুলিতে আহত হয় হোসিয়ারী শ্রমিক রাসেল। এরপর ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কশব ভোলাগাড়ী গ্রামে। রাসেল নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ মার্কেটে একটি হোসিয়ারী কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।


