শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার অভিযোগ, কারাগারে ২৬

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার অভিযোগ, কারাগারে ২৬
রোববার সকালে মিরপুর ১০ নম্বরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা পৃথক তিন মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও কালাম উদ্দিনের আদালত পৃথক শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা অপর একটি মামলায় সাতজন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. ওলিউল্লাহ অনিক, মো. কামাল গাজী, আলিফ হোসেন ইমন, রমজান সরকার, মো. মহিম মোল্লা, জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান, মো. আরিফ আকন্দ, মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ, মো. আরিফ, মো. নাহিদ হাসান, মাহবুবুর রহমান জুয়েল, শামীম, মো. সুমন গাজী, মো. ইউসুফ আলী, রাজীব চন্দ্র দাশ, মো. জামাল সরকার, মো. তারেক হোসেন, মো. ইমরান হোসেন, মো. আবুল কাসেম, মো. মহীন উদ্দিন, কাওসার আহমেদ, মো. রফিক গাজী, মো. ইসমাইল, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সজীব শেখ ও মো. মোর্শেদ আলম।

আরও পড়ুন

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং পেট্রোলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিরপুর মডেল থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরে মিরপুর-১০ এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।

আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad