নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রী নিশা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. আব্দুর রহমানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার বিচারপতি জাফর আহমেদ এবং বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন। আদালত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল খারিজ করেছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী। তিনি টাইমসকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিলো নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামি আব্দুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই সাজা অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।
অন্যদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন আসামি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নিহত নিশা বেগম বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার প্রবাসী তাজুল ইসলামের স্ত্রী। আব্দুর রহমান ছিলেন নিশার ননদের স্বামী। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিশাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ এলাকায় নিশাকে একা পেয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন আব্দুর রহমান। একপর্যায়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন।
নিশা চিৎকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন আব্দুর রহমান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ১০ ডিসেম্বর নিশার ভাই মো. রাব্বি মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় আব্দুর রহমানকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।


