একটি দক্ষ বিচারব্যবস্থার জন্য বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন ও বিচারকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশের নিম্ন আদালতে কর্মরত বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ দিবস উপলক্ষে রোববার এক বিবৃতিতে বিচারকরা আশা করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং আইনের শাসন চালিত সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন ও মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করে, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আইনের শাসন প্রতিষ্টা, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে স্বাধীন বিচার বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর থেকে বিগত বছরগুলোতে দেশের বিচারক সমাজ নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মামলার জট নিরসন এবং দ্রুততম সময়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি সদস্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আজকের এই ঐতিহাসিক দিবসে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুন্ন রাখতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
একই সঙ্গে, বিচারব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক ভূমিকা কামনা করছে।
২০০৭ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করে বলে মনে করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
পাশাপাশি এই গৌরবময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেশের সব স্তরের বিচারক, বিচারালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী এবং ন্যায়বিচারপ্রার্থী আপামর জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায় বিচারকদের এই সংগঠন।


