নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তার দুই যুবক হলেন দুর্গাপুর পৌর শহরের ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)।
দুপুরে তাদের দুর্গাপুর চৌকি আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেখানে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে নেত্রকোণা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল। ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় আর রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
ওসি জানান, জবানবন্দিতে আসামিরা যাদের সংশ্লিষ্টতার কথা এবং যেসব নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১০ নভেম্বর সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইমন। সেই মামলায় সাব্বিরও অন্যতম আসামি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আলিফ হত্যা মামলার তদন্তেও ইমনের নাম উঠে আসে।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির। ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার ওরফে আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ নিয়ে আলিফ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের দুজনকেই পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।


