সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পুলিশের সাত দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন আসামি। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি গুপ্তচর ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন জাবেদ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক চার দিনের পুলিশ হেফাজতের আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তার সহযোগী লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা, লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষসহ অন্যদের নিয়ে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতেন। পাশাপাশি সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। এসব তৎপরতার মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার।
রিমান্ড আবেদনে ‘Khondokar A Hafiz’ নামের ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজ থেকে সহিংসতায় উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ হত্যার পক্ষে প্রচারণা, ৫ আগস্টের পর সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক তথ্য ছড়ানো এবং বিদেশি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ আনা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, কথিত দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধসংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গোপন পেজ ও ওয়েবসাইট শনাক্ত, জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য যাচাই এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থেও রিমান্ড প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন খন্দকার আব্দুল হাফিজ। এ ছাড়া পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার ও দেশি-বিদেশি গোয়েন্দাদের সহায়তায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


