রাজধানীর মিরপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০টি ককটেল, ৪১টি মশাল লাঠি ও প্রায় দুই লিটার কেরোসিন তেল উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। বুধবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে মিরপুর-১-এর পাইকপাড়ার আনসার ক্যাম্প এলাকায় তানিম ভবনের সামনে থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, রাতের টহল ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান হোসেন জানতে পারেন, আনসার ক্যাম্প এলাকায় রাস্তার ওপর ককটেলসদৃশ বস্তু ও মশাল লাঠি পড়ে রয়েছে। বিষয়টি জানার পর মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্যের সত্যতা পান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে ডিএমপির স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটের (এসআরইউ) সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টা ৪৫ মিনিটে এসআরইউর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় তিনটি কাগজের ব্যাগ থেকে ১৫টি এবং রাস্তার ওপর থেকে আরও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুটি বোতলে আনুমানিক দুই লিটার কেরোসিন তেল, ৪১টি মশাল লাঠি এবং জড়ো করে রাখা নরম ককশিট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ককটেলগুলো জননিরাপত্তার স্বার্থে নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। পরে রাত ২টা ২০ মিনিটে মিরপুরের কল্যাণপুরে হাক্কানী গলি সংলগ্ন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের খোলা জায়গায় গর্ত খুঁড়ে দুই দফায় বিস্ফোরণের মাধ্যমে ২০টি ককটেল ধ্বংস করা হয়।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার সরঞ্জামগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের বিকাবদারের নির্দেশনায় এবং মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে সহায়তা করে ডিএমপির এসআরইউ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুর এলাকায় অপরাধ দমন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


