সিলেটে অপরাজিত সেঞ্চুরি করে শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উদ্ধার করেছেন আমির জাঙ্গু। তার ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়। এর আগে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জাঙ্গু ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার সঙ্গে ৩৫ রানে ক্রিজে টিকে আছেন জাস্টিন গ্রিভস।
অভিষিক্ত কেভিন উইকহামও ধৈর্যশীল ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। জাঙ্গুর সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেন তিনি।
ঢাকায় প্রথম টেস্টে আট উইকেটে জিতে সিরিজ জয়ের পর এবার হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায়। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই ২৭ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
স্লিপে একাধিক ক্যাচ মিস না হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা আরও ভয়াবহ হতে পারত। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম ওভারে কোনো ফিল্ডারের সহায়তা ছাড়াই উইকেটের দেখা পান তাসকিন আহমেদ। ব্র্যান্ডন কিংয়ের (৯) স্টাম্প ভেঙে দেন তিনি।
পরের ওভারেই হাসান মাহমুদ ক্যাভেম হজকে বোল্ড করেন। মাত্র ১ রান করে ফেরেন হজ।
এরপর জশুয়া ডা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে আরেকটি আঘাত হানেন তাসকিন। ১২ রান করে ফেরেন ডা সিলভা। ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় এই ম্যাচে খেলতে পারেননি জন ক্যাম্পবেল। তার পরিবর্তে খেলছিলেন ডা সিলভা। ফলে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে গভীর বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন উইকহাম ও জাঙ্গু। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসে শুরুতে কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগলেও ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেন অভিষিক্ত উইকহাম। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে দৃঢ়তা ও ধৈর্যের পরিচয় দেন তিনি।
অফ স্পিনার নাঈম হাসানের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১২৩ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন উইকহাম।
অন্যপ্রান্তে প্রথম টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ছন্দ ফিরে পান জাঙ্গু। তবে শুরুতে কয়েকবার বিপদে পড়েও ভাগ্যের সহায়তা পান তিনি। বাংলাদেশের ফিল্ডারদের হাত ফসকে যাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে স্বস্তিতে ব্যাটিং চালিয়ে যান বাঁহাতি এই ব্যাটার।
নাঈমকে ডিপ পয়েন্ট দিয়ে কাট করে এক রান নিয়ে ৮৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জাঙ্গু।
চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ । দুই ব্যাটারের বিপরীতধর্মী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
উইকহাম ছিলেন ধৈর্যের প্রতীক, অন্যদিকে জাঙ্গু ছিলেন আক্রমণাত্মক।
শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের পরিকল্পিত বোলিংয়ে ভাঙে এই জুটি। ২৩ বছর বয়সী উইকহামকে আউট করতে শুরুতে একের পর এক শর্ট বল করেন হাসান। এরপর ভালো লেংথের একটি বলে তাঁর রক্ষণ ভেদ করে স্টাম্প ভেঙ্গে দেন।
উইকহামের বিদায়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে। তবে জাঙ্গুর সঙ্গে যোগ দিয়ে গ্রিভস সফরকারীদের সেই সুযোগ দেননি।
একপ্রান্তে সংযত ব্যাটিং করেন গ্রিভস। অন্যপ্রান্তে কর্তৃত্বের সঙ্গে ব্যাটিং চালিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান জাঙ্গু।
সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা সফরে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া জাঙ্গু ১৪৯ বলে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে দারুণভাবে মাইলফলকটি উদযাপন করেন তিনি।
জাঙ্গুর অপরাজিত ১১১ রান এবং গ্রিভসের দৃঢ়তাপূর্ণ ৩৫ রানের ইনিংসে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়েও দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ও হাসান সমান দুটি করে উইকেট নেন।


