রেফারি মুনিরের শেষ বাঁশি বাজতেই জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকদের উল্লাস। সাদ-শ্রাবণরা তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন। ঘরের মাঠে ফুটবলের এমন দৃশ্য মনে রাখার মতোই। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ।
র্যাংকিং ও শক্তিমত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ভুটান। সেই দলই বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে স্বস্তি এনে দেন ৬৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মো. ইব্রাহিম। মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল করেন তিনি। জায়ান আহমেদের ক্রসে ভুটানের বক্সে সামিত সোমের হেড ঘুরে আসা বল ভলিতে জালে পাঠান ইব্রাহিম। তার গোলেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
মাস দুয়েক আগে ফর্টিজকে গোল করে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে তুলেছিলেন মো. ইব্রাহিম। একসময় জাতীয় দলে নিয়মিত খেলতেন তিনি। মাঝে অবশ্য দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। এবার ভুটান ম্যাচে ত্রাতা হয়ে এলেন সেই ইব্রাহিমই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জায়গায় মাঠে নামেন ফাহমিদুল। মিনিট পনেরো পর আরও দুটি পরিবর্তন করেন কোচ ডুলি। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো বিশ্বনাথের পরিবর্তে ইব্রাহিম ও সোহেল রানাকে নামান তিনি। মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল পান ইব্রাহিম।
এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটের জন্য ডিফেন্ডার রহমত মিয়াকে নামান কোচ ডুলি। পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে চাপে ফেলার মতো আক্রমণ করতে পারেনি ভুটান। বাংলাদেশও ব্যবধান দ্বিগুণ করার মতো তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
আজ বাংলাদেশের একাদশের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা। চোটের কারণে আসিয়ান কাপের স্কোয়াডে ছিলেন না বিশ্বনাথ। এবার সাফের আগে অনুশীলনে তাঁকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়েছেন কোচ। ম্যাচেও স্ট্রাইকার হিসেবে নামান তাঁকে।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। বেশির ভাগ সময়ই বল ছিল ভুটানের অর্ধে। ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিব কয়েকবার বক্সে ঢুকেছেন। তার ক্রসে একবার বিশ্বনাথ হেড করলেও বল বাইরে চলে যায়। কখনো তার নেওয়া শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পজিশন বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার বিষয়টি প্রথমার্ধে বিশ্বনাথের খেলায় স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচের বেশির ভাগ সময় লো ব্লকে খেলেছে ভুটান। ৩০ মিনিটের পর কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থান ছেড়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে তারা। অধিনায়ক চ্যানচো গ্যালেস্টাইন দ্রুতগতিতে কয়েকবার বল নিয়ে এগিয়ে যান। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ একবারই দূরপাল্লার শট ঠেকান।


