পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তিনি জানিয়েছেন, পর্তুগাল চিরকাল তার হৃদয়ে থাকবে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত ৪১ বছর বয়সী রোনালদো পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। পুরুষদের ফুটবলে জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করার রেকর্ডও তার। পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন তিনি।
২০০৩ সালের আগস্টে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে পর্তুগালকে নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে ভূমিকা রাখেন রোনালদো। এ ছাড়া নেশনস লিগের দুটি শিরোপাও জিতেছেন তিনি।
গত সেপ্টেম্বরে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে পর্তুগালের হয়ে নিজের ২৩৪তম ও শেষ ম্যাচটি খেলেন এই ফরোয়ার্ড। পরের ম্যাচে তাকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চে রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। এরপর আগেভাগেই পর্তুগাল দল ছেড়ে যান রোনালদো।
এ ঘটনায় তাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়। এরপর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সতীর্থদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে এবং অবসরের কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানাতে ১ হাজার ৭৪০ শব্দের একটি বার্তা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও বিবৃতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবিলম্বে অবসরের ঘোষণা দেন রোনালদো।
বার্তায় তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। কখনো মনে করিনি, জার্সিটি শুধু আমারই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, এর পক্ষে লড়াই করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে এটি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ও দায়িত্ব পেয়েছি।’
রোনালদো বলেন, ‘এবার সময় এসেছে জার্সিটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মন দিয়ে নেওয়া যায় না। সেসব সিদ্ধান্তে হৃদয়েরও ভূমিকা থাকে।’
জাতীয় দলের হয়ে নিজের যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটেছে। জাতীয় দলের হয়ে সবকিছু ফিরে দেখলে আমার চোখে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফি ভেসে ওঠে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি মানুষদের দেখি। বিদেশে বসবাস করা সেই পর্তুগিজদের দেখি, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও নিজেদের দেশের আরও কাছাকাছি অনুভব করেছেন।
‘এমন লাখো পর্তুগিজ মানুষকে দেখি, যাদের সঙ্গে কখনো আমার দেখা হয়নি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছেন। কারণ, শেষ পর্যন্ত ফুটবল শুধু একটি খেলার চেয়ে অনেক বড়। ফুটবল মানুষের গল্প।’
অবসরের ঘোষণা দেওয়া ভিডিওতে রোনালদো বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই আমি নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। জিততে চেয়েছি, আরও ভালো হতে চেয়েছি, ইতিহাস গড়তে চেয়েছি। নিজের কাছে সব সময় সর্বোচ্চ প্রত্যাশা রেখেছি। সব সময় আরও বেশি চেয়েছি।
‘আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, আমরা আরও দূর যেতে পারব। এই জার্সির জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।’
নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিছু বিকাল ও রাত ছিল নিখুঁত। এমন কিছু জয় এসেছে, যা কখনো ভুলব না। আবার কিছু পরাজয় আছে, যেগুলোর কথা মনে পড়লেও এখনো কষ্ট হয়।’
শেষে রোনালদো বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। কষ্ট পেয়েছি। এমন মুহূর্তও এসেছে, যখন পর্তুগালের মানুষ আমার কাছে যা চেয়েছিলেন, তা দিতে পারিনি। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে, পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত হওয়া কখনো বন্ধ করিনি।’


