দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি গত অক্টোবর মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি পাথর উত্তোলন করে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ খনির ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ পাথর উত্তোলনের ঘটনা।
খনি পরিচালনাকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম’ (জিটিসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খনি সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় দফায় চুক্তি নবায়নের পর থেকেই এখানে পাথর উত্তোলন অনেক বেড়েছে। ছুটির দিনগুলো বাদ দিলে গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজার টন করে পাথর তোলা হয়েছে। এতে বোঝা যায় বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে খনির কাজ করার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়েছে।
বর্তমানে খনির উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলনের কাজে সরাসরি যুক্ত আছেন একদল বিদেশী বিশেষজ্ঞ।
১৯৭৩-৭৪ সালে মধ্যপাড়ায় এই পাথরের খনির সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৯৪ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও বাণিজ্যিকভাবে পাথর তোলা শুরু হয় ২০০৭ সালের ২৫ মে।
শুরুর দিকে এই খনি থেকে দিনে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টন পাথর উঠত। তবে বর্তমান ঠিকাদার কাজ শুরু করার পর উৎপাদন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসের এই সাফল্য খনির ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে উৎপাদন বাড়ায় এখন বিদেশ থেকে পাথর আমদানির ওপর চাপ অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে খনি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন মাপের প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন পাথর মজুত রয়েছে, যা দেশের বাজারে পাথরের বড় ধরনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন টাইমস’কে জানান, আন্তর্জাতিক বাজার এবং আমদানি করা পাথরের দামের সাথে মিল রেখে দেশের পাথরের দাম নতুন করে ঠিক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দাম পুনর্নির্ধারণের পর থেকেই দেশীয় এই পাথরের চাহিদা ও বিক্রি দুটোই বেশ বেড়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাথরের এই বাড়তি উৎপাদন ও বিক্রি ধরে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহযোগিতা দিয়ে যেতে হবে।


