চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম ক্লাবের অতিথিশালায় রিজভীর কাছে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা চুয়েটে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, উপাচার্য অপসারণের ঘটনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে তাদের দাবির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আন্দোলনের প্রশংসা করেন রুহুল কবির রিজভী। কোনো ধরনের অরাজকতা ছাড়াই আন্দোলন পরিচালনা করায় তিনি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ঢাকায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান নাফি বলেন, ‘আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা আশা করি, তার মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবির আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে এবং চুয়েটের সব স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত ফিরিয়ে আনবে।’
এর আগে আন্দোলন চলাকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
নিয়োগের পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা যায়। তবে এরপর থেকে ক্যাম্পাসে তার সরাসরি উপস্থিতি কিংবা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
১২ অক্টোবর শেখ শরীফুল আলম উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন এসে তাকে উদ্ধার করে।


